রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই গড়ে উঠছে একের পর এক অবৈধ বহুতল ভবন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজউকের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে একটি শক্তিশালী হাউসিং সিন্ডিকেট ১০ থেকে ১৫ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে, যা পুরো এলাকাকে এক ভয়ংকর ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মোহাম্মদপুর মূল এলাকা ছাড়িয়ে ঢাকা উদ্যান, গ্রীন সিটি, তুরাগ হাউসিং, নবীনগর হাউসিং, চাঁদ উদ্যান ও বসিলা গার্ডেন সিটির মতো এলাকাগুলোতে অনুমোদনহীন ভবনের সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। রাজউকের নকশা বহির্ভূত নির্মাণ, অতিরিক্ত ফ্লোর বাড়ানো এবং নীতিমালা লঙ্ঘন এখন এই এলাকায় ওপেন সিক্রেট। অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে অসাধু কর্মকর্তারা এসব অনিয়মকে ‘নীরব বৈধতা’ দিয়ে যাচ্ছেন।
নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এই অপরিকল্পিত নগরায়ন মোহাম্মদপুরকে একটি ‘কংক্রিটের ঘন জঙ্গলে’ পরিণত করছে। ভবনগুলোতে পর্যাপ্ত ভূমিকম্প প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেই এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমন পথ অনুপস্থিত। পার্কিং সুবিধা ও আধুনিক ইঞ্জিনিয়ারিং মানদণ্ড অনুসরণ না করায় সামান্য দুর্যোগেই এখানে ভয়াবহ প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, রাজউকের প্রশাসনিক নজরদারির অভাবেই এই অরাজকতা চলছে। একজন বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা প্রতিদিন মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছি। ঘুষ আর প্রভাবের কাছে আইন এখন অসহায়।”
সচেতন মহল মনে করছে, এখনই যদি এসব অবৈধ ভবন শনাক্ত করে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভবনধস বা অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হবে না।
Leave a Reply